উলিপুরে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের তালিকা করতে টাকা নেয়ার অভিযোগ

উলিপুরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পে অনিয়ম
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে ‘‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্লাস (ইউজিপিপি প্লাস)” প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম বর্হিভূতভাবে পুরাতন শ্রমিকদের ছাটাই করে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে নতুন শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে এ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বঞ্চিত উপকারভোগী শ্রমিকরা সোমবার বিকালে (২৭ ফেব্রুয়ারী) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ‘‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্লাস (ইউজিপিপি প্লাস)” প্রকল্প ১১ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের উপকারভোগীরা কাজ শুরু করলেও এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা তাদের কাছে অর্থ দাবী করেন। অর্থ দিতে না পারলে তাদের পরিবর্তে নতুন ভাবে শ্রমিকের তালিকা করে কাজ শুরু করেন। এ ঘটনায় বঞ্চিত শ্রমিকরা তাদের কাজ ফিরে পাবার দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কক্সবাজার জেলায় “অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্লাস (ইউজিপিপি প্লাস)” এর আদলে নদী ভাঙ্গন ও দারিদ্রতার ভিত্তিতে কুড়িগ্রামসহ ৫টি জেলায় এ প্রকল্পের কাজ দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ১১ ফেব্রুয়ারী থেকে কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে পূর্বের উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৬৭জন, বর্তমানে তা কমিয়ে ৫ হাজার ৭১জন করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন ৯শ ৯৬ জন শ্রমিক। প্রতিটি ইউনিয়ন গড়ে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ শ্রমিক ছাটাই করা হয়েছে।
অফিস সূত্রে আরোও জানা গেছে, পূর্বের উপকারভোগীদের ৪০ দিনের কর্মসূচীর বিপরীতে প্রতিটি শ্রমিকের মজুরী ছিল ২শ টাকা। বর্তমানে ইউজিপিপি প্লাস প্রকল্পে ১শ ১০ দিনের কর্মসূচীতে শ্রমিক প্রতি মজুরী পাবেন ৪শ টাকা। সে হিসাবে একজন শ্রমিক প্রকল্প শেষে ৪৪ হাজার টাকা পাবেন।
ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের পুরাতন শ্রমিক মজনু মিয়া (অগ্রনী ব্যাংক হিসাব নং-৪০৮৮), আব্দুল খালেক (৭২৮২), আইয়ুব আলী(৪০৭৪), শাহিদা বেগম (২৯৩৭), ধামশ্রেনী ইউনিয়নের রমিচা (২৬২), গোলেনুর (২২৭)সহ আরো অনেকে বলেন, চেয়ারম্যান মেম্বাররা ৮ থেকে ১০ হাজার করি ট্যাকা চায়। হামরা গুলা ট্যাকা দিবার পাই নাই জন্য মেম্বার ও চেয়ারম্যান হামার গুলার নাম তুলি দিয়া ট্যাকা নিয়া নতুন মানুষ নিছে। হামরা গুলা কামত গেইলে চেয়ারম্যান হামাক জোর করি ভাগে দেয়।
সাহেবের আলগা ইউনিয়নের আর্জিনা (২১৫০), রোকেয়া (৬৭৮), শেফালী (৬৫৬২)সহ অনেকে বলেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বার হামার কাছে টাকা চাইছে, হামরা দিবার পাই নাই জন্য নতুন মানুষের কাছে টাকা নিয়া ওমাক কামত নিছে। হামরা কাম ফেরত চাই।
ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক জানান, এ ইউনিয়নে পূর্বের উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ৩শ ৮৫ জন, বর্তমানে বরাদ্দকৃত উপকারভোগীর সংখ্যা ৩শ ২২ জন। তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে ৬৩ জনের। হয়তো তারাই অভিযোগ করেছে। টাকার বিনিময়ে নতুন নাম তালিকাভূক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মিথ্যা অভিযোগ। এদের কাছে টাকা চাইলে তো আমার চেয়ারম্যানি শেষ করে দিবে। তিনি আরো বলেন, অনেক শ্রমিক আছে নিজেদেরকে ক্ষমতাসীন দলের লোক দাবী করে কাজ না করে টাকা নেয়ারও হুমকি দেন।
ধামশ্রেনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার ইউনিয়নে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। শুনেছি অন্য ইউনিয়নে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সদস্য সচিব সিরাজুদৌলা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের উপকারভোগীরা কাজ করবেন। উপরের নিদের্শনা অনুযায়ী গড়ে প্রতিটি ইউনিয়নে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ শ্রমিক তালিকা থেকে ছাঁটাই হবে। তবে পূর্বের শ্রমিক বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিকের তালিকা করা যাবে না। এ ধরনের ঘটনা তদন্তে ধরা পড়লে উপকারভোগীদের তালিকা থেকে নতুন শ্রমিকদের নাম কর্তন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্পের সভাপতি শোভন রাংসা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে তালিকা দেয়া হয়েছে তা পূর্বের তালিকার সাথে মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সেখানে পুরাতন শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন