ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ব্যয়ভার বহনের বিধি প্রণয়নে রুল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০২২, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ব্যয়ভার বহনের বিধি প্রণয়নে রুল

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে

আদালত প্রতিবেদক
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৩(২) ধারা মোতাবেক ধর্ষণের ফলে ভিকটিমের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুদের ব্যয়ভার বহনের জন্য বিধি প্রণয়ন করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রুলে ধর্ষণের কারণে জন্ম নেওয়া কুড়িগ্রামের এক শিশুর ব্যয়ভার বহনের জন্য কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আইন সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার (১৬ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। আইনজীবীরা বলেন, ২০১০ সালে কুড়িগ্রামে এক নারী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় থানা মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। ভিকটিম আদালতে মামলা করলে দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০২১ সালে এ মামলার রায় হয়। মামলা চলাকালীন অবস্থায় ধর্ষণের কারণে ওই নারীর গর্ভে এক কন্যাশিশু জন্মগ্রহণ করে। আদালত আসামি খয়ের আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এছাড়া ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া ওই শিশুর যাবতীয় ব্যয়ভার সরকারকে বহনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন হওয়ার ২২ বছর পরেও এ বিষয়ে কোনো বিধিমালা না থাকার কারণে শিশুর ব্যয়ভার সরকার বহন করেনি। উল্টো কুড়িগ্রামের ডিসি শিশুটিকে এতিমখানায় দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে ১৩ ফেব্রæয়ারি হাইকোর্টে রিট করা হয়। সেটির শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত।