সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মাথা উঁচু করতে দেব না : প্রধান বিচারপতি

‘একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত আমরা বাঙ্গালি’
বিশেষ প্রতিবেদক : একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে আমরা বাঙ্গালি। এর মধ্যে কেউ মুসলিম, কেউ হিন্দু, কেউ বৌদ্ধ, কেউ খ্রিস্টান। তবে আমাদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত আমরা বাঙ্গালি। এই দেশের প্রকৃতি কেমন হবে তা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নির্ধারণ হয়ে গেছে। এটা বাঙালিদের দেশ, এটা বাংলাদেশিদের দেশ। এই দেশের মানুষ ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে। এটা কারও করুণা নয়। ‘আসুন ধর্মের স্পিরিট ধারণ করে আমরা সৎ থাকবো, দুর্নীতির কাছে যাব না, আমরা অর্থপাচার করব না। আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলে এই দেশকে গড়ে তুলব। কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেব না।’ দেশে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মাথা উচু করে দাঁড়াতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। গত বৃহস্পতিবার সরস্বতী পূজা উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির বিজয়া পুর্নর্মিলনী ও বাণী অর্চনা উদযাপন পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার প্রেক্ষাপটে ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,‘আমরা ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করব। আমরা মিত্যবায়ী হব।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের মূল একটি নীতি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা, যেটা সংশোধনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদেরও নাই। আর এই ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে আমি বুঝি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা সবাই বাংলার, এই মাটি সবার। ‘সবাই এক সঙ্গে বসবাস করবে, এটা ধর্মনিরপেক্ষতার স্পিরিট। এখানে হীনমন্যতার কিছু নাই। এটাকে যারা উসকাতে চান, তারা একাত্তর সালের চেতনাকে বিশ্বাস করে না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আইন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি কেমন হবে সেটা আমাদের সংবিধানে উল্লেখ আছে। কার স্ট্যাটাস কেমন হবে সেটাও উল্লেখ আছে। আমরা কেউ সংখ্যাগরিষ্ট না আবার কেউ সংখ্যালঘুও না। ‘সবাই আমরা এদেশের নাগরিক। সবার পরিচয় আমরা বাঙালি। কেউ নিজেকে সংখ্যালঘু কমিউনিটির লোক হিসেবে ভাববেন না। এটা কখনও ভাবার কোনো অবকাশ নেই।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের ইসলামের নবী বিদায় হজের ভাষণে বলে গেছেন, ধর্ম নিয়ে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কারণে অনেক জাতি ধবংস হয়ে গেছে।’ হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্দিধায় এখাসে বসবাস করবেন, কোনো রকম সাম্প্রদায়িকতাকে আমরা কেউ প্রশ্রয় দেব না। আমরা একাত্তরকে ভুলে যাব না। আমরা আমদের শাসনতন্ত্রকে ভুলে যাব না। ‘যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, যত দিন শাসনতন্ত্র থাকবে, যত দিন একাত্তর সালের চেতনায় থাকবো ততদিন এই দেশের সব মানুষের অধিকার সমান।’ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি অডিটোরিয়ামে আয়োজি বাণী অর্চনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকিরসহ আইনজীবী নেতারা।


আপনার মতামত লিখুন