
তৌহিদুর রহমান হিসান : অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করণে পৃথক সচিবালয়ের বিকল্প নেই। বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় হলে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত হবে, হস্তক্ষেপ মুক্ত হবে বিচার বিভাগ, নিশ্চিত হবে স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা। স্বাধীন ও দক্ষ বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে অন্তর্র্বতী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধান উপদেষ্টা এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। বিচার বিভাগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগ আজ রাষ্ট্রের সম্পূর্ণরূপে কার্যকর সাংবিধানিক অঙ্গ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা তার কর্তব্যে অবিচল, স্বাধীনতার উপর ভিত্তি করে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি তার অঙ্গীকারে অটল। আমি বিচার বিভাগের সামনে বিচার বিভাগীয় সংস্কার রোডম্যাপ উন্মোচন করার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম, যা স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার উপর ভিত্তি করে নয় বরং প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের ঘোষণা।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি গভীর তাগিদ নিয়ে আবারও পুনরাবৃত্তি করছি যে, বিচার বিভাগের জন্য একটি আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। এটি শুধু প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের জন্যই প্রয়োজন নয়, বরং কাঠামোগত ভিত্তি নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।’
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সভাপতিত্বে গত রবিবার (২২ জুন ২০২৫) তারিখ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা বলরুমে “জুডিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যান্ড এফিসিয়েন্সি” শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারটি পর্যায়ক্রমে দুটি সেশনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা’ এবং ‘বিচার সংস্কার বিষয়ক অধিবেশন’ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আরো বলেন, ‘৩৬টি জেলায় গত ১০ মাসে মামলা নিষ্পত্তির হার নতুন মামলার চেয়ে বেশি, যা প্রমাণ করে বিচারকেরা দেখিয়েছেন যে সংস্কার ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বর্তমানের বাস্তবতা।’

বিচার বিভাগের শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রায় দুই হাজার বিচারক এবং ম্যাজিস্ট্রেটের দৃড় নিষ্ঠা, যার মধ্যে ২৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি তরুণ বিচারক রয়েছেন, যারা প্রতিভা এবং আদর্শবাদের এক অসাধারণ ভান্ডার, তাদের উপস্থিতি প্রতীকী নয় বরং রূপান্তরকারী, আমাদের আদালতে সহানুভূতি, অন্তর্ভুক্তি এবং বৌদ্ধিক কঠোরতা নিয়ে আসে এবং ন্যায়বিচার প্রদানের সংস্কৃতিকে পুনর্গঠন করে। তারা দেখিয়েছেন যে সংস্কার কোনও দূরবর্তী প্রতিশ্রতি নয় বরং বর্তমান বাস্তবতা।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের বিচার বিভাগের শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ জুড়ি প্রায় দুই হাজার বিচারক এবং ম্যাজিস্ট্রেটের দৃড় নিষ্ঠা, যার মধ্যে ২৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি তরুণ বিচারক রয়েছেন, যারা প্রতিভা এবং আদর্শবাদের এক অসাধারণ ভান্ডার। তাদের মধ্যে ৬২৫ জন নারী, বিচারিক পরিষেবার ৩১ শতাংশেরও বেশি, সকলেই কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাদের উপস্থিতি প্রতীকী নয় বরং রূপান্তরকারী, আমাদের আদালতে সহানুভূতি, অন্তর্ভুক্তি এবং বৌদ্ধিক কঠোরতা নিয়ে আসে এবং ন্যায়বিচার প্রদানের সংস্কৃতিকে পুনর্গঠন করে। লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা এবং সীমিত অবকাঠামো সত্তে্বও, এই বিচারকরা, বিশেষ করে ৩৬টি জেলায় যেখানে গত দশ মাসে মামলা নিষ্পত্তি নতুন ফাইলিংকে ছাড়িয়ে গেছে, সেখানে তারা দেখিয়েছেন যে সংস্কার কোনও দূরবর্তী প্রতিশ্রতি নয় বরং বর্তমান বাস্তবতা। দেশব্যাপী ৪২ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন থাকায়, তাদের উদ্ভাবন, প্রতিশ্রুতি এবং স্থিতিস্থাপকতা, সন্ধ্যা এবং সপ্তাহান্তে কাজ করে, জোরালো প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে যে বিচার বিভাগ কেবল অভিযোজনই করছে না, এটি যোগ্যতা, যুবসমাজ এবং উদ্দেশ্য দ্বারা চালিত একটি প্রজন্মগত পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল এখন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার যুগল স্তম্ভ।’ গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর উপস্থাপিত ‘বিচার বিভাগীয় সংস্কার রোডম্যাপ’ কেবল ঘোষণাপত্র নয়, এটি স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের সেবার প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের প্রতিশ্রæতি। এতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠনের পাশাপাশি বদলি ও পদায়নে রাজনীতি-বিমুক্ত নীতিমালা এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত আছে। জনগণের ইচ্ছায় আমাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, আইনের শাসনের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্রের স্তম্ভ হিসেবে বিচার বিভাগকে পুনর্গঠনের গম্ভীর দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, রোডম্যাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার জন্য একটি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় তৈরি করা, পাশাপাশি পদায়নের উপর একটি রাজনীতিমুক্ত নির্দেশিকা এবং বিচারিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য পৃথক দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার আদালতের প্রস্তাব। বিচারকদের জন্য বর্ধিত ভাতা, গাড়ি ঋণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি বিশেষাধিকার হিসেবে নয়, বরং বিচারিক সততার সুরক্ষা হিসেবে চালু করা হয়েছিল। এই কাঠামোগত সংস্কারের পরিপ‚রক হিসেবে, আমি পদ্ধতিগত দক্ষতা এবং দুর্নীতিকে লক্ষ্য করে বারোটি নির্দেশনা জারি করেছি, যার মধ্যে রয়েছে হেল্পলাইন, একটি দেশব্যাপী ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থা এবং জনসাধারণের প্রতিকারের উপায়। এই উদ্যোগগুলি নীরবতার সংস্কৃতি ভেঙে এবং পরিষেবার সংস্কৃতি দিয়ে এটি প্রতিস্থাপন করে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করছে।
তিনি বলেন, বিপ্লব শ্লোগান দিয়ে শেষ হয়নি, এটি একটি নৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং আমাদের রাষ্ট্রীয়তার পুনর্গঠনের দাবি করেছিল। পুরাতন ব্যবস্থা যখন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল, তখন জাতি ক্ষমতার দিকে নয়, বরং নীতির দিকে ঝুঁকেছিল।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, একটি বিচার বিভাগ প্রকৃত স্বাধীনতা দাবি করতে পারে না যদি না তার সর্বোচ্চ সদস্যদের নিয়োগ এবং জবাবদিহিতা কাঠামোগতভাবে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকে। ষোড়শ সংশোধনী মামলার পর্যালোচনা নিষ্পত্তির পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এখন বিচারিক শৃঙ্খলার অভিভাবক হিসেবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, আমরা সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করে একটি ভবিষ্যদ্বাণীম‚লক পদক্ষেপও নিয়েছি, যা একটি কলেজিয়াম-ভিত্তিক সংস্থা যা নিশ্চিত করে যে সর্বোচ্চ আদালতের নিয়োগগুলি যোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং সততার দ্বারা পরিচালিত হবে। বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকরী এই প্রস্তাব ইতোমধ্যেই ফলপ্রস‚ হয়েছে। আপিল বিভাগে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সাম্প্রতিক দুই বিচারককে এই প্রক্রিয়ার অধীনে নিয়োগ করা হয়েছিল, যা বৈধতার একটি নতুন মানদন্ড স্থাপন করেছে। এখন নতুন দফায় নিয়োগ বিবেচনাধীন, যা জোর দিয়ে বলছে যে বিচার বিভাগীয় পদোন্নতি এখন জনসাধারণের আস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার উপর ভিত্তি করে হবে। আইন উপদেষ্টার প্রতি তাঁর গুরুত্বপ‚র্ণ ভ‚মিকার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ, এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল এখন বিচারিক স্বাধীনতার যমজ স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, একদিকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং অন্যদিকে নীতিগত নির্বাচন নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, এই স্তরের কোনও সংস্কার বিচ্ছিন্নভাবে বিকশিত হতে পারে না, এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী সমন্বয় দ্বারা টিকে আছে। ইউএনডিপি সর্বাগ্রে দাঁড়িয়ে আছে, সর্বান্তকরণের সমর্থনের মাধ্যমে দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে রূপান্তরিত করেছে, যার মধ্যে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের সাথে যৌথভাবে আয়োজিত দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি রূপান্তরম‚লক গবেষণা সফর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে আমরা তাদের পুনর্মিলন ও ন্যায়বিচারের মডেল থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছি। এই যাত্রা কেবল বিচার নয়, বরং পুনরুদ্ধার হিসাবে ন্যায়বিচার সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও গভীর করেছে। মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে, সুইডেন এবং ইউএনডিপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল যাতে নাগরিকদের অ্যাক্সেস এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াশীলতার দিকে একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসাবে ২৪/৭ বিচারিক হেল্পলাইন চালু করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে, আমাদের ডিজিটাল আইনি সহায়তা পরিষেবাগুলিকেও এগিয়ে নিচ্ছে, একটি অ্যাক্সেসযোগ্য এবং প্রযুক্তি-চালিত বিচার ব্যবস্থা তৈরি করছে। এই চেতনাকে সারা দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য, আমি আটটি বিভাগে সংস্কার রোড শ পরিচালনা করেছি, যেখানে বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট, বার অ্যাসোসিয়েশন এবং নাগরিকরা সংস্কার এজেন্ডার সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং আমাদের উন্নয়ন অংশীদার- সুইডেন, ইইউ, যুক্তরাজ্য এবং ইউএনডিপি-র গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায়, এই প্রচেষ্টাগুলি এমন একটি বিচার বিভাগ গঠন করছে যা অপেক্ষা করে না, বরং মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ করে।
প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, চলমান সংস্কারের একজন স্টেকহোল্ডার হিসেবে আমাদের যা করার কথা, আমরা তাই করছি। যখন আমরা সংস্কারের কথা বলি, তখন কিন্তু অল্প কোনও কিছুর কথা বলি না, যেটি সময় এবং ক্ষমতার চাপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমরা সেসব কাজের কথাই বলছি- যেগুলো বিগত ৫৪ বছরে করা হয়নি। আমরা সেই পরিবর্তনের কথা বলি, যা শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। আমাদের ওপর যে সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে সব কাজের ফলে স্বৈরাচারতন্ত্র ভেঙে যাবে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ইউএনডিপির বাংলাদেশে নিযুক্ত আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
প্রথম সেশন ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা’ শুরু হয় দুপুর ১:০০ ঘটিকায়। এই সেশনে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা, প্রসিকিউটরিয়াল স্বায়ত্তশাসনের জন্য সংস্কার, বিচার বিভাগীয় দক্ষতা, ডিজিটালাইজেশন এবং বিশেষীকরণ শীর্ষক দুইটি প্যানেল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত প্যানেল অধিবেশনে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ, আপীল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি জাফর আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব অনীক রুশদ হক ও মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, কমনওয়েলথ এর সহকারী মহাসচিব অধ্যাপক মি. লুইস জি ফ্রান্সেস্কি, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত ইউএনডিপি এক্সপার্ট ক্রিস্টোফার ডেকার, ইইউ‘র রাষ্ট্রদূৎ এইচ ই মাইকেল মিলার, এবং সুইডেনের চার্জ দ্যা এফেয়ার্স মারিয়া স্ট্রিড্সম্যান।
দ্বিতীয় সেশন ‘বিচার সংস্কার বিষয়ক অধিবেশন’ শুরু হয় বিকাল ৪:৪৫ ঘটিকায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ বিচারসেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধিতে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এই জাতীয় সেমিনারের দ্বিতীয় সেশনে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরোও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং UNDP, Bangladesh Gi Resident Representative স্টিফান লিলার।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরোও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মহোদয়বৃন্দ, আইনজীবীবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়া, উক্ত সেমিনারে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার কর্মরত জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মরতবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতির ‘রোডম্যাপ’ নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও উপস্থাপন করা হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মাহমুদা বেগম স্বাধীনা
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী : তৌহিদুর রহমান হিসান
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৪৭/৭/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী (যাত্রাবাড়ী মোড়ের ডান দিকে ওয়াপদা কলোনীর বিপরীতে মুন সিএনজি'র সাথের সাংবাদিক গলি) ঢাকা-১২০৪।
মোবাইলঃ ১৩১৬-২০২১৩৭, ০১৬৩২-৩৬৭৬৪৫, ০১৬৮৬-৯০৭৭১২ অফিসঃ ০১৯৮৯-৬০৩৯০৪, ০১৬৩২-৩৬৭৬৪৫ (বিজ্ঞাপন)।
ই-মেইল : shadhindesh1999@gmail.com