গাইবান্ধায় মেডিকেল সনদ নিয়ে বাড়ছে ভোগান্তি

বিপ্লব ইসলাম
মারামারি, হামলা ও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আহতদের জন্য মেডিকেল সনদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল। এই সনদের ওপর নির্ভর করে মামলার তদন্ত, চার্জশিট দাখিল এবং আদালতের বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যায়। তবে অভিযোগ উঠেছে, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এই মেডিকেল সনদ সময়মতো না পাওয়ার। এতে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন মামলার বাদী ও বিবাদীরা।
এতে শুধু ব্যক্তিগত দুর্ভোগই বাড়ছে না, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেও বিলম্ব হচ্ছে পুলিশের। ফলে বাড়ছে মামলাজট, দীর্ঘ হচ্ছে বিচার প্রক্রিয়া ও ব্যাহত হচ্ছে ন্যায়বিচার।
জানা যায়, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল, জেলার সহিংসতা, মারামারি কিংবা দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা এবং মেডিকেল সনদ প্রদানের প্রধান কেন্দ্র। আইনগতভাবে একটি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এই মেডিকেল রিপোর্ট। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে সময়মতো দেয়া হচ্ছে না এই মেডিকেল সনদ।
মামলার বাদীরা বলছেন, ঘটনার পর দ্রæত চিকিৎসা নিলেও মেডিকেল সনদের জন্য পুলিশের মাধ্যমে বারবার হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে তাদের। দিনের পর দিন ঘুরেও মিলছে না প্রয়োজনীয় সনদ। এতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে কাঙ্খিত ন্যায় বিচার।
একই চিত্র বিবাদীদের ক্ষেত্রেও। সময়মতো সনদ না পাওয়ায় নিজেদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন না তারা। ফলে অযথা হয়রানি আর বাড়ছে অনিশ্চয়তা ।
শুধু বিচার প্রত্যাশী নয় এই সংকটের প্রভাব পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজেও। তদন্ত সম্পন্ন হলেও মেডিকেল সনদ না থাকায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারছে না পুলিশ। ফলে মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে। এতে বাড়ছে মামলাজট, দীর্ঘ হচ্ছে বিচার প্রক্রিয়া। বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পেতে সময় লাগছে আরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো: শরীফ আল রাজিব, পিপিএম জানান, মামলা দায়ের পর সেটির অভিযোগপত্র আদালতে দেয়ার জন্য জখমীর মেডিকেল সনদের প্রয়োজন হয়। সঠিক সময় সেই সনদটি না পেলে অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেয়া নিয়ে সময়ক্ষেপন করতে হয়।
গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. মো: আব্দুল হালিম প্রামানিক জানান, মেডিকেল সনদ নিয়ে মামলার বাদী ও বিবাদী উভয়েই বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার কমিটির মিটিং এ আলোচনা করেও সমাধান হচ্ছেনা। এতে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মো: আসিফ জানান, জনবল সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল নিয়েও দ্রæত গতিতে সনদ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে গত বছর বিভিন্ন মামলার ৮শ ১৭টি মেডিকেল সনদের আবেদন করে পুলিশ যার মধ্যে দেয়া হয় ৪শ ৯২টি আর চলতি বছরের গেল তিন মাসে আবেদন করে ১শ ৮৪টি দেয়া হয় ১শ ২৮ টি। মামলা হওয়ার তিন মাসের মধ্যে পুলিশের অভিযোগপত্র দেয়ার কথা থাকলেও সনদ অভাবে তা র্দীঘায়িত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন