কুমিল্লা মহানগরীতে ছিনতাইয়ের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে নগরবাসী
মো ইকরাম হোসেন
মো ইকরাম হোসেন;নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা মহানগরীতে দিন দিন ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে ব্যস্ততম মোড় ও জনবহুল সড়কে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক ছিনতাইকারী চক্র। এতে করে আতঙ্কে রয়েছেন নগরবাসী। অনেকেই জরুরি প্রয়োজনেও রাতের বেলায় চলাচল করতে সাহস পাচ্ছেন না।প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় সাধারণ মানুষ তাদের মোবাইল, ব্যাগ, টাকা বা মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইকারীদের হাতে হারাচ্ছেন। নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি। বিশেষ করে সকাল বেলা অফিস বা কোচিংমুখী ও রাতে বাড়ি ফেরার পথে মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় এলাকার টাউন হলের সামনে,ধর্মপুরভিক্টোরিয়া কলেজ রোড, পুবালি চত্ত্বর, রাণীর দিঘির পাড়, মহিলা কলেজ রোড, চকবাজার শাপলা মার্কেট, তেলিকোনা চৌমুহনী, গোবিন্দ কুপুর পাড়, ,রাণীর বাজার, ঠাকুরপাড়া, রেইসকোর্স ধানমন্ডি সড়ক এলাকা, টমসনব্রিজ থেকে বাখরাবাদ সড়কের কয়েকটি এলাকা, কালিয়াজুড়ি পাক্কার মাথা, সংরাইশ কালিবাড়ি মোড়, টিক্কারচর, তালকুপুর পাড়, শাসনগাছা ফ্লাইওভারের নিচের রোড ও আশপাশের এলাকার অন্তত অর্ধশাধিক স্থানে ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা। এসব এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বারবার ঘটছে। ছিনতাইকারীরা কখনো মোটরসাইকেল, আবার কখনো পায়ে হেঁটে এসে মুহূর্তেই মোবাইল, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।এই এলাকাগুলো ছিনতাইপ্রবণ হিসেবে স্থানীয়দের মাঝে পরিচিত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই এসব স্থানে কোথাও না কোথাও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ ছিনতাইকারীই টাউন হল ও আশপাশের এলাকায় ঘাপটি মেরে থাকে। সুযোগ পেলেই অস্ত্র ঠেকিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে টাকা, গহনা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।ছিনতাইয়ের শিকার লোকজন বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইকারীরা তাদের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছেন। ছিনতাইয়ের কবলে পড়ার পর অস্ত্রের মুখে তাদেরকে কিছু বলার উপক্রম থাকে না। আর কোনো কিছু দিতে না চাইলে তারা অস্ত্র দিয়ে আঘা করে। তাই নিরুপায় হয়ে সব কিছু দিয়ে দিতে হয়।
ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, ছিনতাইকারীরা সাধারণত দুই বা ততোধিক দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেলে করে আসে অথবা হেঁটে এসে মুহূর্তেই হামলা চালায়। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোবাইল, মানিব্যাগ, গলার চেইন কিংবা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
গত রবিবার রাতে কুমিল্লা শহরের বিশ্বরোড যাওয়ার পথে শাকতলা এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন রহমান মিয়া নামে কুমিল্লা ইপিজেডের একটি কোম্পানীর কর্মকর্তা। তিনি জানান, ব্যাংক থেকে বেতনের টাকা তুলে রাত ১১ টার দিকে শাকতলা মডার্ন হাসপাতালে রিকশায় চড়ে বাসায় যাচ্ছিল। একটু নিরিবিলিতে তিনজন ছিনতাইকারী এসে রিকশার গতিরোধ করে। এদের মধ্যে দুইজন দেশীয় অস্ত্র এবং একজন মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তার কাছে থাকায় ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
আরিফ হোসেন, একজন কলেজ ছাত্র, বলেন “শাকতলা রোডে সন্ধ্যায় কোচিং শেষে ফিরছিলাম, হঠাৎ পেছন থেকে দুইজন এসে মোবাইল কেড়ে নেয়। আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায়।
রোজিনা আক্তার, চাকরিজীবী নারী, জানান “চকবাজার থেকে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ কেউ পেছন থেকে ব্যাগ ধরে টান দেয়, আর মুহূর্তেই দৌড়ে পালায়। চারপাশে লোকজন ছিল, কিন্তু কেউ কিছু বলতে সাহস করেনি।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক চরমে। এখন কেউ একা চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে নারীরা এবং শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন ছিনতাইকারীদের। ছিনতাইকারীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে অনেক সময় রিকশা বা সিএনজি থামিয়েও ছিনতাই করছে।
নগরীর এক ব্যবসায়ী বলেন “এখন এমন অবস্থা হয়েছে, সন্ধ্যার পর বাজার করতে গেলে চিন্তা করতে হয়—পণ্য নেবো নাকি জীবন বাঁচাবো! মোবাইল আর টাকা পকেটে রাখাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
দিন দিন ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়তে থাকায় অনেকেই এখন গ্রুপ করে চলাফেরা করছেন। কেউ কেউ রাতের সময় চলাচল সীমিত করেছেন। তবে অনেকের মতে, শুধু সচেতনতা যথেষ্ট নয়, পুরো শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার।কুমিল্লা মহানগরীর নানা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাই এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায় চলতে গিয়েই সাধারণ মানুষ হারাচ্ছেন তাদের সর্বস্ব। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের মনে আতঙ্ক আর উদ্বেগ ছাড়া আর কিছুই নেই। অনেকেই মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে নগরীতে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।

-মোহাম্মদ মফিজ উল্যহ বাবলু.বিটিএস ফ্যামেলি 
আপনার মতামত লিখুন
Array