একুশ কার্যদিবসে দ্রুততম রায়ের নজির শিশু আছিয়া হত্যা মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
একুশ কার্যদিবসে দ্রুততম রায়ের নজির শিশু আছিয়া হত্যা মামলা

আদালত প্রতিবেদক :

মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে ২১ একুশ একুশ কার্যদিবসে দ্রুততম রায়ের নজির শিশু আছিয়া হত্যা মামলা। আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অপর তিন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামির নাম হিটু শেখ। গত শনিবার (১৭ মে) সকালে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক এম জাহিদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

খালাস পাওয়া তিনজন হলেন- হিটু শেখের স্ত্রী জাহেদা বেগম এবং সন্তান সজীব শেখ ও রাতুল শেখ। আলোচিত এই মামলা দ্রুততার সঙ্গে বিচার কার্য সম্পন্ন হয়। এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ গঠন বা বিচার শুরুর ২১ দিনের মাথায় এবং মাত্র ১২ কার্যদিবসের মধ্যে আলোচিত এই মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হলো। ঘটনার মাত্র দুই মাস ১১ দিনের মাথায় এই মামলার রায় হলো।

মাগুরার শিশু আছিয়ার ধর্ষণের মামলার ২১ একুশ কার্যদিবসে দ্রুততম রায়ের বিচার সম্পন্ন করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ কৌঁগতলি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় অ্যাটর্নি জেনারেলের সমমর্যাদাপ্রাপ্ত আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীকে। তিনিও শুনানিতে অংশ নেন। গত ১৩ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। গত ২৭ এপ্রিল মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ছুটির দিন বাদে টানা শুনানি চলে। আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ শুনানি হয়।

আইন ও আদালত বিষয়ক সকল খবর ‌’‌Shadhindesh’

মামলায় শিশুটির বোনের শ্বশুরকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/ ২ ধারায় (ধর্ষণের ফলে মৃত্যুর অপরাধ), শিশুটির বোনের স্বামী ও ভাশুরকে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার দ্বিতীয় অংশ (ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং বোনের শাশুড়ির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (অপরাধের আলামত নষ্টের অভিযোগ) অভিযোগ গঠন করা হয়।
গত ১৫ মার্চ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সব্যসাচী রায়ের আদালতে শিশুটির বোনের শ্বশুর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিম‚লক জবানবন্দি দেন।

৬ মার্চ সকালে ছোট ছেলের কক্ষে (শিশুটির বোনের স্বামীর কক্ষে) শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। শিশুটি বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

 

একুশ কার্যদিবসে দ্রুততম রায়ের নজির শিশু আছিয়া হত্যা মামলা

চাঞ্চল্যকর শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত রায় বিচার বিভাগের একটি বড় সাফল্য, এতে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তার ভেরিফাইড ফেসবুকে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এডভোকেট শিশির মনির বলেন, মামলার বিচার শেষে যার যতটুকু শাস্তি ততটুকুই হতে হয়। আবেগ দিয়ে বিচার চলে না। তিনি বলেন, দ্রুত বিচার পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। দেখা গেছে কোন-কোন মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় ১০-১৫ বছর সময় কিংবা তারও বেশি সময়ক্ষেপণ হয়। এতে করে বিচারের প্রাসঙ্গিকতা আর থাকে না।

এডভোকেট শিশির মনির বলেন, আরো যেসব চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে, ওইসব মামলায় সাক্ষ্য সংগ্রহ সম্ভব হলে দ্রুত বিচার নিশ্চিতে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলায় গণহারে সাজা দিতে। আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও অন্যদের খালাস রায়ে খুশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দোষীকে শাস্তি এবং নিরাপরাধের খালাসই ন্যায়বিচার। তিনি বলেন, সংক্ষুদ্ধ পক্ষগণের আপিলের সূযোগ রয়েছে। শিশির মনির বলেন, দ্রুত বিচার করতে গিয়ে যেন নিরপরাধ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটিও দেখতে হবে। আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানান, শিশির মনির। স্বল্প সময় বিচার সম্পন্ন করার যে নজির স্থাপন হলো সেটি যেন ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বিচার বিভাগে এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরো পড়ুন : ২১ একুশ কার্যদিবসে দ্রুততম রায়ের নজির শিশু আছিয়া হত্যা মামলা

গত ১৩ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। গত ১৫ মার্চ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সব্যসাচী রায়ের আদালতে শিশুটির বোনের শ্বশুর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় পরবর্তী ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবী জানাচ্ছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট

স্বাধীন দেশ ই-পেপার দেখতে ক্লিক করুন ‘ই-স্বাধীন দেশ’