খুঁজুন
, ,

ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভোলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
র‍্যালিতে ব্যানার, ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণকালে দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের রাজপথ। পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মাসুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মুনতাসির আলম চৌধুরী রবীনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান, হুমায়ুন কবির সোপান ও কবির হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, ভোলা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত আলী, জেলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিম, সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাসেল।
এ ছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব শাহ জুয়েল, যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন মনির, ওমর ফারুক, লুকু চৌধুরী, ফিরোজ, হারুনুর রশিদ সুমন, কামাল মেম্বার, কামাল পাশা, কামাল মোল্লা, এমদাদ হোসেন ও সপন গোলাদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিল, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক দেওয়ান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাইনুদ্দিন হাওলাদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ও সোহাগসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দলের আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগঠনটির ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

শিক্ষার উন্নয়নে জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী

জান্নাতুল মাওয়া
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষার উন্নয়নে জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। গত রোববার (৯ আগস্ট) এ সাক্ষাতে শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নেয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। একই সঙ্গে শিক্ষার উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আইরিন খান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফলতার সঙ্গে এ খাতে কাজ করছেন। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।’ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও বৃত্তিম‚লক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ এসময় বাংলাদেশের শিক্ষার উন্নয়নে জাতিসংঘের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে জাতিসংঘের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। সাক্ষাতে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারে ভবিষ্যতে জাতিসংঘের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

মাদারীপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক-কে জেলা ছাত্রদলের স্মারকলিপি প্রদান

মোঃ ফায়েজুল কবীর, মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক-কে জেলা ছাত্রদলের স্মারকলিপি প্রদান

মাদারীপুরের আড়িয়ালখাঁ নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে দৈনিক স্বাধীন দেশ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি সংবাদ পরিবেশনের পর সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন সহ রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে পরিবারবর্গ, দোকানপাট, হাটবাজার, বিভিন্ন স্থাপনা, নদী রক্ষার দাবি জোরালো হয়েছে, জেগে উঠেছে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল। নড়েচড়েও বসতে শুরু করেছে প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে মাদারীপুর জেলা ছাত্রদল।​

স্মারকলিপি প্রদানকালে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া এবং মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান সহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।​ স্মারকলিপিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আইন ও পরিবেশ নীতির তোয়াক্কা না করে আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে অনবরত বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নদীভাঙ্গণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে নদীর তীরবর্তী কৃষি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরও নতুন-নতুন কৃষিজমি, বাড়ীঘর, স্থাপনা এবং মাদারীপুর শহরও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

পাশাপাশি চরম হুমকির মুখে পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।​ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ছাত্রদলের স্মারকলিপিতে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে ১) আড়িয়ালখাঁ নদীতে সব ধরনের অবৈধ ড্রেজার চলাচল ও বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করা ২) বালু উত্তোলনে জড়িত সিন্ডিকেট, ব্যক্তি ও তাদের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া ৩) নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার জব্দ ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা ৪) নদী সুরক্ষায় প্রশাসনিক তদারকি ও নিয়মিত অভিযান জোরদার করা ও ৫) নদীর নাব্যতা এবং পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করার দাবি পেশ করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদল কর্তৃক উক্ত স্মারকলিপিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, জনস্বার্থে এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।​ মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

মাদারীপুরের দুই ইউনিয়নের মানুষের একটি বাঁশের সাঁকোই যেনো পথচলার সম্বল, পাকা ব্রীজ নির্মাণের দাবী

মোঃ ফায়েজুল কবীর, মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২:১২ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুরের দুই ইউনিয়নের মানুষের একটি বাঁশের সাঁকোই যেনো পথচলার সম্বল, পাকা ব্রীজ নির্মাণের দাবী

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের টোংচর গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষের আশেপাশের বাজারঘাট ও জেলা সদরে দৈনন্দিন ব্যবসা-বানিজ্য, অফিস- আদালত কর্ম, লেখাপড়া সহ ইত্যাদি কাজে প্রতিদিন ব্যবহার করতে হয় আঁড়িয়ালখা নদী থেকে প্রবহমান একটি বড় শাখা খালের হোগলপাতিয়ার সাঁকো ঘাটা। পূর্ব এনায়েতনগরের টোংচর থেকে মাদারীপুর জেলা সদরে আসতে উক্ত খালটি পার না হয়ে অন্য তেমন কোনো আর সড়ক পথ নেই। সেখানে একটি মাত্র সরু ইটেরসোলিংয়ের রাস্তা রয়েছে যা’ দিয়ে একমাত্র ভ্যান-রিক্সা-ইজিবাইক ও ছোট যান চলাচল করতে পারে মূল পিচঢালা পাকা সড়কে পৌঁছাতে।

পথিমধ্যে কালকিনি উপজেলার টোংচর থেকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়ার বাঁশের সাঁকোটি মানুষের চলাচল ও খালটি পার হওয়ার প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন কয়েক হাজার বাসিন্দা, কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী, তরুণ-যুক, বৃদ্ধ নর-নারী, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উক্ত সাঁকোটি পার হয়ে আশেপাশের স্কুল, বাজারঘাট এবং মাদারীপুর শহরে আসেন। কিন্তু বাঁশের সাঁকোটি পার হতে গিয়েই ঘটে যত সব বিড়ম্বনা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সহ মালামাল পার করা মানুষগুলো পড়েন সবচেয়ে বেশী বিপদে।

বৃষ্টি হলে বাঁশের সাঁকোতে ঘটে পা পিছলে যাবার ঘটনা-দুর্ঘটনা। এহেন অবস্থার প্রেক্ষিতে সেখানকার বাসিন্দারা স্থানীয় জন প্রতিনিধি, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার এবং মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার কাছে সেখানে একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।