খুঁজুন
, ,

ভোলা-বরিশাল সড়ক যোগাযোগ : দ্রুত বাস্তবায়নে একসঙ্গে এগোতে পারে রহমতপুর করিডর ও সরাসরি সেতু

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
ভোলা-বরিশাল সড়ক যোগাযোগ : দ্রুত বাস্তবায়নে একসঙ্গে এগোতে পারে রহমতপুর করিডর ও সরাসরি সেতু
দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে এবার বাস্তবায়নকেন্দ্রিক পদক্ষেপ চায় ভোলাবাসী। রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা মহাসড়ক নির্মাণের নতুন উদ্যোগ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়া সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু—দুটি প্রকল্পকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বড় সেতু নির্মাণে সময় লাগলেও অপেক্ষাকৃত দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সড়ক করিডরকে আগে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতুর অর্থায়ন, পিপিপি প্রক্রিয়া, নকশা ও দরপত্রের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে দুটি উদ্যোগই পরস্পরের বিকল্প না হয়ে ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার পরিপূরক অবকাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।
দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে রহমতপুর করিডর : ২২ আগস্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ, প্রয়োজনীয় নতুন সড়ক নির্মাণ এবং তিনটি সেতু নির্মাণের কথা রয়েছে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—রহমতপুর প্রান্তে বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। ফলে পুরো নতুন একটি মহাসড়ক শূন্য থেকে নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি জরুরি সমন্বিত সম্ভাব্যতা ও প্রকৌশল সমীক্ষা। এতে কোন অংশ বিদ্যমান সড়ক ব্যবহার করবে, কোথায় প্রশস্তকরণ প্রয়োজন, কোন কোন স্থানে সেতু বা কালভার্ট প্রয়োজন এবং কোথায় ভূমি অধিগ্রহণ লাগবে—এসব নির্দিষ্ট করতে হবে।
‘আগে সমীক্ষা, পরে বছর বছর অপেক্ষা’ নয় : ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি সময় চলে যায় সিদ্ধান্তের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়। তাই এবার প্রকল্পটিকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হলে একসঙ্গে কয়েকটি কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
প্রথম পর্যায়ে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা করিডরের পূর্ণাঙ্গ রুট ম্যাপ, প্রাথমিক ব্যয় ও ভূমি অধিগ্রহণের তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। একই সময়ে পরিবেশগত ও নদীসংক্রান্ত সমীক্ষাও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এরপর যে অংশে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই বা কম, সেখানে প্রাথমিক সড়ক উন্নয়নকাজ আগে শুরু করা যেতে পারে। এতে পুরো প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা না করে কাজকে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে।
সরাসরি সেতুর কাজও থেমে থাকা উচিত নয় : অন্যদিকে সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে নতুন করে শূন্য থেকে সবকিছু শুরু করার প্রয়োজন নেই।
সমীক্ষায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের দৈর্ঘ্য, ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ, নদীশাসন, অর্থনৈতিক সুফলসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা এবং প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগও রয়েছে।
এ কারণে সেতু প্রকল্পে এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থায়ন ও বিনিয়োগকারী চূড়ান্ত করা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা।
এক প্রকল্পের জন্য আরেক প্রকল্প আটকে রাখা যাবে না : ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হবে—একটি প্রকল্পের কারণে অন্য প্রকল্প থেমে যাওয়া। রহমতপুর করিডর বাস্তবায়িত হলে ভোলা জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে একটি কার্যকর বিকল্প সংযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু নির্মিত হলে বরিশালের সঙ্গে ভোলার সরাসরি যোগাযোগ স্থায়ী হবে।
দুটি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও প্রভাব পুরোপুরি এক নয়। তাই কোনটি আগে হবে—এই বিতর্কের পরিবর্তে কোনটি কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় এবং কোনটি দীর্ঘমেয়াদে কী সুফল দেবে, সেটিই হওয়া উচিত মূল বিবেচনা।
১০টি বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত
ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত অগ্রগতির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। এই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে—
১. রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা করিডরের জরুরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা;
২. পুরো রুটের চূড়ান্ত নকশা ও প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ;
৩. ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত চিহ্নিত করা;
৪. প্রয়োজনীয় সেতু ও নদীশাসন কাজের প্রকৌশল নকশা তৈরি;
৫. বিদ্যমান সড়কের যেসব অংশ দ্রুত উন্নয়ন করা সম্ভব, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করা;
৬. সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতুর পিপিপি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া;
৭. দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও অর্থায়নের কাঠামো চূড়ান্ত করা;
৮. ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ও নদীসংক্রান্ত অনুমোদন একই সময়ে এগিয়ে নেওয়া;
৯. দুটি প্রকল্পের জন্য আলাদা সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা;
১০. প্রতি তিন মাসে প্রকল্পের অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
৩০–৫০ বছরের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত
ভোলার জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শুধু একটি রাস্তা বা একটি সেতু নির্মাণ নয়; আগামী কয়েক দশকের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা।
সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশালের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে ভোলা–লক্ষ্মীপুর স্থায়ী যোগাযোগও বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক করিডর গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে ভোলা সরাসরি জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীসহ আশপাশের এলাকাও যোগাযোগ সুবিধা পাবে। এখন প্রয়োজন সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন ।
ভোলাবাসীর কাছে এখন আর শুধু নতুন ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সময়সীমা, অর্থায়ন ও দৃশ্যমান কাজের অগ্রগতি। সরকার চাইলে রহমতপুর করিডরের সমীক্ষা ও নকশার কাজ দ্রুত শুরু করে স্বল্পমেয়াদি যোগাযোগ সুবিধার পথ খুলতে পারে। পাশাপাশি সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতুর পিপিপি প্রক্রিয়া ও অর্থায়ন চূড়ান্ত করে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী যোগাযোগের কাজ এগিয়ে নিতে পারে। ফলে একটি প্রকল্প শেষ হওয়ার অপেক্ষায় অন্য প্রকল্পকে আটকে না রেখে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই পরিকল্পনাই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই হতে পারে ভোলার জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
ভোলাবাসীর প্রত্যাশা, এবার ঘোষণা নয়—প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও বাস্তবায়নের ধাপ ঘোষণা করা হবে। তাহলেই দীর্ঘদিনের ‘বিচ্ছিন্ন ভোলা’ ধীরে ধীরে পরিণত হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে।
এখন প্রশ্ন—কোন প্রকল্প আগে হবে, সেটি নয়; প্রশ্ন হলো, দুটির কাজ কত দ্রুত শুরু করা যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় পুলিশের বিশেষ কর্মশালা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় পুলিশের বিশেষ কর্মশালা

মাদক, বাল্যবিবাহ, আত্মহত্যা, যৌতুক, ইভটিজিং, সাইবার সুরক্ষা, ট্রাফিক আইন ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা সদর মডেল থানা ও ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, “আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সচেতন নাগরিক। মাদক অনেক অপরাধের অন্যতম কারণ। মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি সম্ভাবনাময় জাতি গঠন সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে। ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের এবং ২১ বছরের নিচে ছেলেদের বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। বাল্যবিবাহের কারণে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে এবং পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ৯৯৯ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, “জীবন অমূল্য, কোনো সমস্যাই জীবনের চেয়ে বড় নয়। পরীক্ষায় খারাপ ফল, পারিবারিক চাপ, ইভটিজিং কিংবা মানসিক কষ্টের কারণে আত্মহত্যার মতো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। মন খারাপ বা হতাশা লাগলে পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু অথবা পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে হবে। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়।” কর্মশালায় সাইবার সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা, ডিজিটাল প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ ও ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ‘সততা স্টোর’ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। মাদক, ধূমপান, যৌতুক, ইভটিজিং, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বা ‘ব্যাড টাচ’, প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে নিজেদের জিজ্ঞাসা তুলে ধরে। পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় সঠিক উত্তরদাতা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় এএসপি (প্রবেশনার), সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার প্রতিপাদ্য ছিল “আইন মেনে চলব, নিরাপদ জীবন গড়ব—সচেতন নাগরিক হব।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন চালক, পথচারী ও সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সবাইকে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দক্ষ চালক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সবাই সতর্ক হলে সড়ক হবে নিরাপদ ও সুন্দর।
তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্ত বা ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান কিংবা বাঁকে ওভারটেকিং করা এবং অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. কে. এম. শাহাব উদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হক, জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. দানিউল হক, ট্রাক-ট্যাংকলরি-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, নিরাপদ সড়ক চাই-এর সভাপতি ফারুকা বেগমসহ বিআরটিএর কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. আমিনুল হক আবীর। এর আগে সকাল ৯টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোড মোড়ের ট্রাফিক বক্সের সামনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কেলের উদ্যোগে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় মোটরযানচালক, পরিবহনমালিক, সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যচিত্র ও পরামর্শের মাধ্যমে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত