উল্লাপাড়ায় বাল্যবিবাহ, কাজী মতিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিয়ে নিবন্ধন এবং কাবিননামায় ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণের অভিযোগ উঠেছে ১৩নং-সলপ ইউনিয়নের কাজী আ. মতিনের বিরুদ্ধে। বরের পরিবারের অভিযোগ, দেনমোহরের পরিমাণ গোপন রেখে তাঁদের কাছ থেকে কাবিননামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বাল্যবিবাহ নিবন্ধন, নথির স্বচ্ছতা ও কাজীর দায়িত্বশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারটির দাবি,১৪ জুলাই ২০২৩ সালে কৌশলে তাঁদের নাবালক ছেলেকে ডেকে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে কাজী আ. মতিনের মাধ্যমে কাবিননামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়। দেনমোহরের পরিমাণ জানতে চাইলেও তা জানানো হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। পরবর্তীতে আদালতের নথি ও কাবিননামার সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে তাঁরা দেনমোহর ১০ লাখ টাকা দেখতে পান। কাবিননামার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩, পাতা নম্বর ২৩ উল্লেখ করে ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করলেই বিয়ের সময় বরের বয়স এবং নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপ‚র্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তাঁদের দাবি, বিয়ের নিবন্ধন ও দেনমোহর নির্ধারণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, কাজী আ. মতিনের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সিরাজগঞ্জ জেলা কাজী কমিটির নেতাদেরও অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি। এ বিষয়ে কাজী আ. মতিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক স্বাধীন দেশকে বলেন, “বাল্যবিবাহ করিয়েছি, তাতে কী হয়েছে? এমন বাল্যবিবাহ তো অনেক কাজীই করাচ্ছেন। তাঁদের নামেও সংবাদ প্রকাশ করেন।” বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, সাধারণভাবে ২১ বছর প‚র্ণ হয়নি এমন পুরুষ এবং ১৮ বছর প‚র্ণ হয়নি এমন নারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচিত। আইনটির ব্যতিক্রমী বিধান প্রযোজ্য ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। বরের বয়স ১৬ বছর হয়ে থাকলে এবং আইনগত ব্যতিক্রম প্রযোজ্য না হলে বিয়েটির নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভ‚মিকা নিয়ে গুরুতর আইনগত প্রশ্ন উঠতে পারে। এ অবস্থায় বরের বয়স প্রমাণের নথি, কাবিননামার ম‚ল কপি, বিয়ে নিবন্ধনের রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দলিল পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে দেনমোহর নির্ধারণ, স্বাক্ষর গ্রহণ এবং নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন, উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক এবং জেলা নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সত্যতা প্রমাণিত হলে সলপ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী আ. মতিনসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে পরিবারটি।

আপনার মতামত লিখুন
Array