খুঁজুন
, ,

ভোলায় বেলার সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জনের আহ্বান

ভোলা প্রতিনিধি: মোঃ সুলাইমান
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
ভোলায় বেলার সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জনের আহ্বান

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এর ব্যবহার বর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে ভোলায় সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোলার মাছুমা খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এ প্রচারাভিযানের আয়োজন করে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিনের ক্ষতিকর দিক এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

প্রচারাভিযানে বলা হয়, প্লাস্টিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। পলিথিন ও প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা ও জৈবগুণ নষ্ট করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করছে। একই সঙ্গে ড্রেন ও নালা-নর্দমায় জমে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা বাড়াচ্ছে।

এ ছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য জলজ প্রাণীর জীবন ও প্রজনন ব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করছে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর রাসায়নিক মানবদেহে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও প্রচারাভিযানে সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে প্লাস্টিকের বিভিন্ন উপাদানে থাকা সম্ভাব্য কার্সিনোজেনিক ও এনডোক্রাইন-বিঘ্নকারী রাসায়নিকের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রচারাভিযানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, বিক্রি, মজুদ, বিতরণ ও ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান আইনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে প্লাস্টিক-পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়।

এজন্য জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ব্যবহারের পর দ্রুত প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়—এমন পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তারা আরও বলেন, পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে প্লাস্টিকের পরিবেশগত ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানবজীবন রক্ষায় প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

আয়োজকরা বলেন, সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় পুলিশের বিশেষ কর্মশালা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় পুলিশের বিশেষ কর্মশালা

মাদক, বাল্যবিবাহ, আত্মহত্যা, যৌতুক, ইভটিজিং, সাইবার সুরক্ষা, ট্রাফিক আইন ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা সদর মডেল থানা ও ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, “আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সচেতন নাগরিক। মাদক অনেক অপরাধের অন্যতম কারণ। মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি সম্ভাবনাময় জাতি গঠন সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে। ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের এবং ২১ বছরের নিচে ছেলেদের বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। বাল্যবিবাহের কারণে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে এবং পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ৯৯৯ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, “জীবন অমূল্য, কোনো সমস্যাই জীবনের চেয়ে বড় নয়। পরীক্ষায় খারাপ ফল, পারিবারিক চাপ, ইভটিজিং কিংবা মানসিক কষ্টের কারণে আত্মহত্যার মতো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। মন খারাপ বা হতাশা লাগলে পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু অথবা পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে হবে। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়।” কর্মশালায় সাইবার সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা, ডিজিটাল প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ ও ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ‘সততা স্টোর’ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। মাদক, ধূমপান, যৌতুক, ইভটিজিং, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বা ‘ব্যাড টাচ’, প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে নিজেদের জিজ্ঞাসা তুলে ধরে। পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় সঠিক উত্তরদাতা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় এএসপি (প্রবেশনার), সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার প্রতিপাদ্য ছিল “আইন মেনে চলব, নিরাপদ জীবন গড়ব—সচেতন নাগরিক হব।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন চালক, পথচারী ও সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সবাইকে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দক্ষ চালক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সবাই সতর্ক হলে সড়ক হবে নিরাপদ ও সুন্দর।
তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্ত বা ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান কিংবা বাঁকে ওভারটেকিং করা এবং অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. কে. এম. শাহাব উদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হক, জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. দানিউল হক, ট্রাক-ট্যাংকলরি-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, নিরাপদ সড়ক চাই-এর সভাপতি ফারুকা বেগমসহ বিআরটিএর কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. আমিনুল হক আবীর। এর আগে সকাল ৯টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোড মোড়ের ট্রাফিক বক্সের সামনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কেলের উদ্যোগে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় মোটরযানচালক, পরিবহনমালিক, সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যচিত্র ও পরামর্শের মাধ্যমে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও হাত ধোয়া কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন ও জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এদিন সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন। এ ছাড়া বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা আলোচনায় অংশ নেন।
মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার সরকার। তিনি জানান, সঠিকভাবে হাত না ধোয়ার কারণে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হয়।
বক্তারা করোনাকালীন হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, খাবার খাওয়ার আগে ভালোভাবে হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। রান্নার সময় গৃহিণীদেরও খেয়াল রাখতে হবে, যাতে হাতে শাকসবজির ময়লা লেগে না থাকে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী জন পলাশ হাসদা। পরে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি শেখানো হয়।