বেগমগঞ্জ প্রশাসনের উদ্যোগে “আই ক্যাম্পাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম”কর্মশালা অনুষ্ঠিত
‘এখনো মনে হচ্ছে জনগণ যা আশা করে, এখন পর্যন্ত তা পায়নি। এর কারণ হচ্ছে, সংস্কার প্রক্রিয়া আইনগতভাবে এখনো শুরু হয়নি।’—জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এমপি এমন মন্তব্য করে বলেছেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দল সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে একমত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করা সম্ভব হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আইনে যেসব পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সেসব পরিবর্তন করা গেলে গত ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পাবে। তাই এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এই সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের কারণে দেশের প্রতিটি স্তর, বিভাগ ও এলাকায় ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সময় লাগবে। সাত মাস খুবই অল্প সময় হলেও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, কীভাবে সংস্কার করা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো পুরোপুরি ঐকমত্য হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কিছুটা অসুবিধা দেখা দিয়েছে। তবে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও নির্বাচনে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া দলগুলো সমঝোতায় এলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের বঞ্চনা ও দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে শেষ হলে তখন জনগণ কাঙ্ক্ষিত ফল দেখতে পাবেন।
বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘দেশের জনগণ এখন বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে সত্য কথা বলা সম্ভব ছিল না। সত্য কথা বলার কারণে অনেককে ক্রসফায়ারে জীবন দিতে হয়েছে, বহু মানুষ গুম হয়েছেন।’
তিনি বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও পারভেজসহ আরও অনেকে দেশে বাকস্বাধীনতা না থাকার কারণে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। এখন সেই পরিবেশ নেই। সরকারের সমালোচনা করা যাচ্ছে।
সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের সম্পর্কের বিষয়ে স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের নেতা যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং জবাব দিয়েছেন। বিরোধী দলের যেসব অভিযোগ ছিল, সেগুলো কিছুটা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চার দিনের সফরে গত শুক্রবার ভোলায় আসেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এমপি। শনিবার ও রোববার তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে ফেরিযোগে লাহারহাট ঘাটের উদ্দেশে ভোলা ত্যাগ করেন স্পিকার। দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে অবস্থান শেষে বিকেল ৩টার দিকে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের সেরা ‘ভিলেন অভিনেত্রী’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। তিনি অভিযোগ করেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে নিয়ে শেখ হাসিনা তাঁদের স্ত্রী-সন্তানদের সান্ত্বনা দিতেন। অথচ তাঁর ভেতরেই গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ‘হিংস্র মনোভাব’ ছিল।
শনিবার সকাল ১১টায় লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর হাফিজ এসব কথা বলেন। লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল।
মেজর হাফিজ বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন যে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। এভাবে স্বজনদের সামনে সান্ত্বনা দেওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘অভিনয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়গুলো এখন জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনাই গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন। মেজর হাফিজ বলেন, একজন ব্যারিস্টারকে আট বছর হাতকড়া পরিয়ে ‘আয়নাঘরে’ বন্দী করে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাঁর সঙ্গে নির্মম আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর ওই ব্যক্তি মুক্ত হয়ে বর্তমানে সংসদ সদস্য হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন মেজর হাফিজ।
বিগত সরকারের সময়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। এ ছাড়া তৎকালীন একজন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য ছিলেন একজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি’।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১০ সালের উপনির্বাচনের সময় ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনের বেলায় তাঁর নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল। মেজর হাফিজ আরও বলেন, ওই সময় তাঁর নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক এবং ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গেলেও তিনি হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেননি বলে দাবি করেন।
মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনে তাঁরা সন্তুষ্ট কি না, তা জানতে চান। এ সময় সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত ব্যক্তিদের মতামত জানতে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হলে করতালির মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি হয়।
আপনার মতামত লিখুন
Array