খুঁজুন
, ,

মাদারীপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক-কে জেলা ছাত্রদলের স্মারকলিপি প্রদান

মোঃ ফায়েজুল কবীর, মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক-কে জেলা ছাত্রদলের স্মারকলিপি প্রদান

মাদারীপুরের আড়িয়ালখাঁ নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে দৈনিক স্বাধীন দেশ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি সংবাদ পরিবেশনের পর সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন সহ রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে পরিবারবর্গ, দোকানপাট, হাটবাজার, বিভিন্ন স্থাপনা, নদী রক্ষার দাবি জোরালো হয়েছে, জেগে উঠেছে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল। নড়েচড়েও বসতে শুরু করেছে প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে মাদারীপুর জেলা ছাত্রদল।​

স্মারকলিপি প্রদানকালে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া এবং মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান সহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।​ স্মারকলিপিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আইন ও পরিবেশ নীতির তোয়াক্কা না করে আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে অনবরত বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নদীভাঙ্গণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে নদীর তীরবর্তী কৃষি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরও নতুন-নতুন কৃষিজমি, বাড়ীঘর, স্থাপনা এবং মাদারীপুর শহরও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

পাশাপাশি চরম হুমকির মুখে পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।​ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ছাত্রদলের স্মারকলিপিতে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে ১) আড়িয়ালখাঁ নদীতে সব ধরনের অবৈধ ড্রেজার চলাচল ও বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করা ২) বালু উত্তোলনে জড়িত সিন্ডিকেট, ব্যক্তি ও তাদের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া ৩) নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার জব্দ ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা ৪) নদী সুরক্ষায় প্রশাসনিক তদারকি ও নিয়মিত অভিযান জোরদার করা ও ৫) নদীর নাব্যতা এবং পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করার দাবি পেশ করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদল কর্তৃক উক্ত স্মারকলিপিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, জনস্বার্থে এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।​ মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

মাদারীপুরের দুই ইউনিয়নের মানুষের একটি বাঁশের সাঁকোই যেনো পথচলার সম্বল, পাকা ব্রীজ নির্মাণের দাবী

মোঃ ফায়েজুল কবীর, মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২:১২ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুরের দুই ইউনিয়নের মানুষের একটি বাঁশের সাঁকোই যেনো পথচলার সম্বল, পাকা ব্রীজ নির্মাণের দাবী

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের টোংচর গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষের আশেপাশের বাজারঘাট ও জেলা সদরে দৈনন্দিন ব্যবসা-বানিজ্য, অফিস- আদালত কর্ম, লেখাপড়া সহ ইত্যাদি কাজে প্রতিদিন ব্যবহার করতে হয় আঁড়িয়ালখা নদী থেকে প্রবহমান একটি বড় শাখা খালের হোগলপাতিয়ার সাঁকো ঘাটা। পূর্ব এনায়েতনগরের টোংচর থেকে মাদারীপুর জেলা সদরে আসতে উক্ত খালটি পার না হয়ে অন্য তেমন কোনো আর সড়ক পথ নেই। সেখানে একটি মাত্র সরু ইটেরসোলিংয়ের রাস্তা রয়েছে যা’ দিয়ে একমাত্র ভ্যান-রিক্সা-ইজিবাইক ও ছোট যান চলাচল করতে পারে মূল পিচঢালা পাকা সড়কে পৌঁছাতে।

পথিমধ্যে কালকিনি উপজেলার টোংচর থেকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়ার বাঁশের সাঁকোটি মানুষের চলাচল ও খালটি পার হওয়ার প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন কয়েক হাজার বাসিন্দা, কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী, তরুণ-যুক, বৃদ্ধ নর-নারী, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উক্ত সাঁকোটি পার হয়ে আশেপাশের স্কুল, বাজারঘাট এবং মাদারীপুর শহরে আসেন। কিন্তু বাঁশের সাঁকোটি পার হতে গিয়েই ঘটে যত সব বিড়ম্বনা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সহ মালামাল পার করা মানুষগুলো পড়েন সবচেয়ে বেশী বিপদে।

বৃষ্টি হলে বাঁশের সাঁকোতে ঘটে পা পিছলে যাবার ঘটনা-দুর্ঘটনা। এহেন অবস্থার প্রেক্ষিতে সেখানকার বাসিন্দারা স্থানীয় জন প্রতিনিধি, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার এবং মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার কাছে সেখানে একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের বিশ্ব যুব সম্মেলনে একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিনিধি তামরিন

জান্নাতুল মাওয়া
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘের বিশ্ব যুব সম্মেলনে একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিনিধি তামরিন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলন ‘ফিউচার উই ওয়ান্ট মডেল ইউনাইটেড নেশনস (এফডব্লিউএমইউএন) সম্মেলন ২০২৬’। এতে একমাত্র বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন শেখ সিদরাতুল মুনতাহা সিদ্দিকী তামরিন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সম্মেলনের প্রতিনিধি হিসেবে তার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নির্বাচিত তরুণ নেতাদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও কয়েকজন তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিলেও তাদের পাসপোর্ট বাংলাদেশি নয়। ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে তামরিনই সম্মেলনে সরাসরি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চার দিনব্যাপী সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি, কূটনীতি, তরুণ নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তরুণদের নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক দক্ষতা বিকাশে এ ধরনের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেখ সিদরাতুল মুনতাহা সিদ্দিকী তামরিন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী সাংবাদিক শেখ ফয়সাল সিদ্দিকী ববির জ্যেষ্ঠ কন্যা। প্রবাসে বেড়ে উঠলেও বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধারণ করে বেড়ে উঠেছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তামরিনের বাবা সাংবাদিক শেখ ফয়সাল সিদ্দিকী ববি বলেন, একজন বাংলাদেশি ও একজন প্রবাসী বাবা হিসেবে এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমার মেয়ে প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে বাংলাদেশি তরুণরা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সততার মাধ্যমে তামরিন যেন দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করতে পারে, সে জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি। এফডব্লিউএমইউএন জাতিসংঘের আদলে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক সম্মেলন। এতে অংশগ্রহণকারী তরুণদের কূটনৈতিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে নীতি-নির্ধারণী আলোচনার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান

জান্নাতুল মাওয়া
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান

আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পরে তাঁকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আইরিন খানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে গত বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, আইরিন খান এ পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আইরিন খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। আইরিন খান বর্তমানে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।