বিচারকের স্বল্পতার কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে : মাহবুব উদ্দিন
নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিতে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। একইসঙ্গে মামলার বিশাল জট কমাতে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। গত রোববার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নোয়াখালী-১ আসনের এ সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
সম্প্রতি নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রামিসার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। দ্রুত বিচার নিশ্চিতে পুলিশি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করার আহ্বান জানিয়ে বার সভাপতি খোকন বলেন, মানুষের অতীতের অভিজ্ঞতা হলো, বছরের পর বছর বিচার শেষ হয় না। তাই দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। “দ্রুত বিচার করলে এটা কোনো বেআইনি কাজ নয়; বরং দীর্ঘসূত্রতা করলে মানুষ সেটাকে খারাপ মনে করে।
নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “কারো কোনো সাজা হলে আপিল বিভাগে আসার পর সেই আপিল শুনানি হতে কত বছর লাগবে কেউ জানেন না। এজন্য সরকারের আশ্বাসেও মানুষ বিশ্বাস করছে না।
প্রধান বিচারপতির কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনসহ স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ তৈরি করুন। বিশেষ বেঞ্চ করলে তাড়াতাড়ি আপিল নিষ্পত্তি হবে, জনগণও দেখতে ও বুঝতে পারবে যে বিচার হয়েছে।
উচ্চ আদালতে বিচারক সংকটের কথা তুলে ধরে আইনজীবী নেতা খোকন বলেন, বিচারকের স্বল্পতার কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে। আগে আপিল বিভাগে তিনটি বেঞ্চ থাকলেও এখন মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে কাজ চলছে। হাইকোর্টে কারও জামিন হলে এবং চেম্বার জজ তা স্থগিত করলে সাত-আট বছর ধরে সেটার আর শুনানি হচ্ছে না।
কোরবানির ঈদের ছুটির পরপরই আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিচারক নিয়োগের আইন না থাকায় এর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। সরকার এভাবে ধীরগতিতে চলতে পারে না। লম্বা সিরিয়ালের কারণে মানুষের বিচার পেতে দেরি হলে তা দুর্নীতির জন্ম দেয়। কমপক্ষে দুটি বা তিনটি বেঞ্চ যেন করা যায়, আপিল বিভাগে অবিলম্বে সেভাবে বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।
সম্প্রতি শিশু রামিসা ‘ধর্ষণ’ ও হত্যার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এই নৃশংস, নির্লজ্জ, ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য সমগ্র জাতি আজকে অসম্মানিত। আইনজীবী হিসেবে আমাদেরও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির পক্ষে আইনি লড়াই না করার বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি খোকন। তিনি বলেন, তারা (ঢাকা বার) মনে করলে এমন সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। তবে প্রত্যেকটা মানুষের আইনগত আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। একজন আইনজীবীরও অধিকার আছে মামলা লড়ার। আইনিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর যদি আসামির সাজা বহাল থাকে, তাহলে সেই বিচার নিয়ে আর কারও কোনো সন্দেহ থাকে না।

আপনার মতামত লিখুন
Array