খুঁজুন
, ,

বরিশাল-ভোলা রুটে নির্মিত হচ্ছে নতুন মহাসড়ক, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
বরিশাল-ভোলা রুটে নির্মিত হচ্ছে নতুন মহাসড়ক, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে মোট তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটি চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়। এই রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমেই ভোলা যুক্ত হবে দেশের মূল সড়কের সঙ্গে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার এই উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত এই রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া নির্মাণ করতে হবে তিনটি ছোট সেতু। খুব শিগগিরই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ, দুটিই অনেক কমে আসবে। নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় ভোলার মানুষের যোগাযোগে দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর যে একক নির্ভরতা রয়েছে, নতুন সড়ক সংযোগ তৈরি হলে তা অনেকটাই কমে আসবে। সভায় কর্মকর্তারা জানান, হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দূরত্ব, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী। বিশেষ করে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প পথ হয়ে উঠবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

ভোলা-বরিশাল সড়ক যোগাযোগ : দ্রুত বাস্তবায়নে একসঙ্গে এগোতে পারে রহমতপুর করিডর ও সরাসরি সেতু

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
ভোলা-বরিশাল সড়ক যোগাযোগ : দ্রুত বাস্তবায়নে একসঙ্গে এগোতে পারে রহমতপুর করিডর ও সরাসরি সেতু
দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে এবার বাস্তবায়নকেন্দ্রিক পদক্ষেপ চায় ভোলাবাসী। রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা মহাসড়ক নির্মাণের নতুন উদ্যোগ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়া সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু—দুটি প্রকল্পকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বড় সেতু নির্মাণে সময় লাগলেও অপেক্ষাকৃত দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সড়ক করিডরকে আগে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতুর অর্থায়ন, পিপিপি প্রক্রিয়া, নকশা ও দরপত্রের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে দুটি উদ্যোগই পরস্পরের বিকল্প না হয়ে ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার পরিপূরক অবকাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।
দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে রহমতপুর করিডর : ২২ আগস্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ, প্রয়োজনীয় নতুন সড়ক নির্মাণ এবং তিনটি সেতু নির্মাণের কথা রয়েছে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—রহমতপুর প্রান্তে বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। ফলে পুরো নতুন একটি মহাসড়ক শূন্য থেকে নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি জরুরি সমন্বিত সম্ভাব্যতা ও প্রকৌশল সমীক্ষা। এতে কোন অংশ বিদ্যমান সড়ক ব্যবহার করবে, কোথায় প্রশস্তকরণ প্রয়োজন, কোন কোন স্থানে সেতু বা কালভার্ট প্রয়োজন এবং কোথায় ভূমি অধিগ্রহণ লাগবে—এসব নির্দিষ্ট করতে হবে।
‘আগে সমীক্ষা, পরে বছর বছর অপেক্ষা’ নয় : ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি সময় চলে যায় সিদ্ধান্তের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়। তাই এবার প্রকল্পটিকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হলে একসঙ্গে কয়েকটি কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
প্রথম পর্যায়ে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা করিডরের পূর্ণাঙ্গ রুট ম্যাপ, প্রাথমিক ব্যয় ও ভূমি অধিগ্রহণের তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। একই সময়ে পরিবেশগত ও নদীসংক্রান্ত সমীক্ষাও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এরপর যে অংশে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই বা কম, সেখানে প্রাথমিক সড়ক উন্নয়নকাজ আগে শুরু করা যেতে পারে। এতে পুরো প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা না করে কাজকে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে।
সরাসরি সেতুর কাজও থেমে থাকা উচিত নয় : অন্যদিকে সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে নতুন করে শূন্য থেকে সবকিছু শুরু করার প্রয়োজন নেই।
সমীক্ষায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের দৈর্ঘ্য, ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ, নদীশাসন, অর্থনৈতিক সুফলসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা এবং প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগও রয়েছে।
এ কারণে সেতু প্রকল্পে এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থায়ন ও বিনিয়োগকারী চূড়ান্ত করা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা।
এক প্রকল্পের জন্য আরেক প্রকল্প আটকে রাখা যাবে না : ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হবে—একটি প্রকল্পের কারণে অন্য প্রকল্প থেমে যাওয়া। রহমতপুর করিডর বাস্তবায়িত হলে ভোলা জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে একটি কার্যকর বিকল্প সংযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু নির্মিত হলে বরিশালের সঙ্গে ভোলার সরাসরি যোগাযোগ স্থায়ী হবে।
দুটি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও প্রভাব পুরোপুরি এক নয়। তাই কোনটি আগে হবে—এই বিতর্কের পরিবর্তে কোনটি কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় এবং কোনটি দীর্ঘমেয়াদে কী সুফল দেবে, সেটিই হওয়া উচিত মূল বিবেচনা।
১০টি বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত
ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত অগ্রগতির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। এই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে—
১. রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা করিডরের জরুরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা;
২. পুরো রুটের চূড়ান্ত নকশা ও প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ;
৩. ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত চিহ্নিত করা;
৪. প্রয়োজনীয় সেতু ও নদীশাসন কাজের প্রকৌশল নকশা তৈরি;
৫. বিদ্যমান সড়কের যেসব অংশ দ্রুত উন্নয়ন করা সম্ভব, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করা;
৬. সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতুর পিপিপি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া;
৭. দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও অর্থায়নের কাঠামো চূড়ান্ত করা;
৮. ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ও নদীসংক্রান্ত অনুমোদন একই সময়ে এগিয়ে নেওয়া;
৯. দুটি প্রকল্পের জন্য আলাদা সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা;
১০. প্রতি তিন মাসে প্রকল্পের অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
৩০–৫০ বছরের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত
ভোলার জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শুধু একটি রাস্তা বা একটি সেতু নির্মাণ নয়; আগামী কয়েক দশকের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা।
সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশালের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে ভোলা–লক্ষ্মীপুর স্থায়ী যোগাযোগও বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক করিডর গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে ভোলা সরাসরি জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীসহ আশপাশের এলাকাও যোগাযোগ সুবিধা পাবে। এখন প্রয়োজন সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন ।
ভোলাবাসীর কাছে এখন আর শুধু নতুন ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সময়সীমা, অর্থায়ন ও দৃশ্যমান কাজের অগ্রগতি। সরকার চাইলে রহমতপুর করিডরের সমীক্ষা ও নকশার কাজ দ্রুত শুরু করে স্বল্পমেয়াদি যোগাযোগ সুবিধার পথ খুলতে পারে। পাশাপাশি সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতুর পিপিপি প্রক্রিয়া ও অর্থায়ন চূড়ান্ত করে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী যোগাযোগের কাজ এগিয়ে নিতে পারে। ফলে একটি প্রকল্প শেষ হওয়ার অপেক্ষায় অন্য প্রকল্পকে আটকে না রেখে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই পরিকল্পনাই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই হতে পারে ভোলার জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
ভোলাবাসীর প্রত্যাশা, এবার ঘোষণা নয়—প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও বাস্তবায়নের ধাপ ঘোষণা করা হবে। তাহলেই দীর্ঘদিনের ‘বিচ্ছিন্ন ভোলা’ ধীরে ধীরে পরিণত হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে।
এখন প্রশ্ন—কোন প্রকল্প আগে হবে, সেটি নয়; প্রশ্ন হলো, দুটির কাজ কত দ্রুত শুরু করা যায়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আন্দালিভ রহমান পার্থ

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আন্দালিভ রহমান পার্থ

মঈন খান স্থানীয় সরকারে, পার্থ তথ্যে, বিমানে মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাচিং প্রু, পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী

নতুন শপথ নেওয়া চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তর বদল করা হয়েছে।গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রথমে রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এরপর তিনি নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করেন। শপথ নেওয়া নতুন চার মন্ত্রী হলেন, আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরী ও আন্দালিভ রহমান পার্থ। এর মধ্যে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাট) ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শূন্য পদে আবদুল মঈন খান দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানমকে (রিতা) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দায়িত্ব পান দীপেন দেওয়ান। কিন্তু তিন মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা করা হয়েছে।

আর শামীম কায়সার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

নতুন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আগে থেকে এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শামা ওবায়েদ ইসলামও আগের পদে থাকবেন। অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন খলিলুর রহমান। সূত্র : প্রথম আলো

শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে তিনি এ শপথ গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, অন্তবর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা।

এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনী প্রধান, সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাজানো হয় জাতীয় সংগীত।

এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় শপথের মূল আনুষ্ঠানিকতা। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
পরে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। রাষ্ট্রপতির শপথ ও নতুন মন্ত্রীদের শপথকে কেন্দ্র করে পুরো বঙ্গভবন এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মূলভবনসহ পুরো বঙ্গভবন এলাকা নতুন সাজে সাজানো হয়।নিরাপত্তার স্বার্থে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের নির্দিষ্ট পাস ও কয়েক দফা গাড়ি চেকিংয়ের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়েছে।