খুঁজুন
, ,

ভোলায় বেলার সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জনের আহ্বান

ভোলা প্রতিনিধি: মোঃ সুলাইমান
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
ভোলায় বেলার সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জনের আহ্বান

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এর ব্যবহার বর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে ভোলায় সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোলার মাছুমা খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এ প্রচারাভিযানের আয়োজন করে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিনের ক্ষতিকর দিক এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

প্রচারাভিযানে বলা হয়, প্লাস্টিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। পলিথিন ও প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা ও জৈবগুণ নষ্ট করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করছে। একই সঙ্গে ড্রেন ও নালা-নর্দমায় জমে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা বাড়াচ্ছে।

এ ছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য জলজ প্রাণীর জীবন ও প্রজনন ব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করছে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর রাসায়নিক মানবদেহে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও প্রচারাভিযানে সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে প্লাস্টিকের বিভিন্ন উপাদানে থাকা সম্ভাব্য কার্সিনোজেনিক ও এনডোক্রাইন-বিঘ্নকারী রাসায়নিকের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রচারাভিযানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, বিক্রি, মজুদ, বিতরণ ও ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান আইনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে প্লাস্টিক-পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়।

এজন্য জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ব্যবহারের পর দ্রুত প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়—এমন পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তারা আরও বলেন, পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে প্লাস্টিকের পরিবেশগত ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানবজীবন রক্ষায় প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

আয়োজকরা বলেন, সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে কালিয়ার শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

মোঃ রাসেল হুসাইন, নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে কালিয়ার শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের শুক্তগ্রাম উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির মাঠের জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। অতিরিক্ত বৃষ্টি, পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা না থাকা এবং নিচু জায়গার কারণে বিদ্যালয়টি পানিতে ডুবে থাকে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।

বিদ্যালয়ের মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকায় এবং পয়োনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা বা বালু ভরাটের ব্যবস্থা না করায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনের মাঠজুড়ে পানি জমে রয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি, আবার কোথাও কাদা ও আগাছায় ভরে আছে। স্কুল মাঠে বিচরণ করছে হাঁস। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে ওই বাড়ির বাসিন্দারাও অস্বস্তিত বোধ করছেন।

স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুলে মাঠে পানি জমে থাকায় তারা অন্যের বাড়ীর ওপর দিয়ে আসলে তারা রাগ করে। মাঠে পানি জমে থাকায় তারা খেলাধুলা করতে পারেনা। তাই দ্রুত বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং যাতায়াতের উপযুক্ত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশও অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া দুষিত পানিতে চলাচলের ফলে নানা ধরনের চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যালয়টিকে জলাবদ্ধতামুক্ত করা হোক।

এ বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোনিয়া পারভিন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলের প্রধান গেইট বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুলে আসতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অন্যের বাড়ীর ওপর দিয়ে আসতে হয়। তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে মাপ নিয়েছেন বলে জানান। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বা ওই ক্লাষ্টারের এটিও বিষয়টি আমাকে জানায়নি। আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম। সমস্যা নিরসনে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে তিনি দেখা করতে বলেছেন।

জয়পুরহাটে বিচার ব্যবস্থা গতিশীল করতে পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
জয়পুরহাটে বিচার ব্যবস্থা গতিশীল করতে পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে সমন্বয় জোরদার, বিচারিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার লক্ষ্যে পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে জয়পুরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জয়পুরহাটের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তাজুল ইসলাম মিঞা।

কনফারেন্সে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি, মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি এবং পুলিশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিলন চন্দ্র পাল, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ আতিয়ারা আকতার, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাসির উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহাইমেনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পিপি টিএম মোজাহিদ আজিজ, প্রবেশন অফিসার শারমিন সুলতানা। এছাড়া বিচার বিভাগের কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিচারিক ও আইনগত সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কনফারেন্সে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নিয়মিত এ ধরনের সমন্বয় সভা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভোলা-বরিশাল সড়ক যোগাযোগ : দ্রুত বাস্তবায়নে একসঙ্গে এগোতে পারে রহমতপুর করিডর ও সরাসরি সেতু

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
ভোলা-বরিশাল সড়ক যোগাযোগ : দ্রুত বাস্তবায়নে একসঙ্গে এগোতে পারে রহমতপুর করিডর ও সরাসরি সেতু
দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে এবার বাস্তবায়নকেন্দ্রিক পদক্ষেপ চায় ভোলাবাসী। রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা মহাসড়ক নির্মাণের নতুন উদ্যোগ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়া সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু—দুটি প্রকল্পকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বড় সেতু নির্মাণে সময় লাগলেও অপেক্ষাকৃত দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সড়ক করিডরকে আগে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতুর অর্থায়ন, পিপিপি প্রক্রিয়া, নকশা ও দরপত্রের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে দুটি উদ্যোগই পরস্পরের বিকল্প না হয়ে ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার পরিপূরক অবকাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।
দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে রহমতপুর করিডর : ২২ আগস্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ, প্রয়োজনীয় নতুন সড়ক নির্মাণ এবং তিনটি সেতু নির্মাণের কথা রয়েছে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—রহমতপুর প্রান্তে বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। ফলে পুরো নতুন একটি মহাসড়ক শূন্য থেকে নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি জরুরি সমন্বিত সম্ভাব্যতা ও প্রকৌশল সমীক্ষা। এতে কোন অংশ বিদ্যমান সড়ক ব্যবহার করবে, কোথায় প্রশস্তকরণ প্রয়োজন, কোন কোন স্থানে সেতু বা কালভার্ট প্রয়োজন এবং কোথায় ভূমি অধিগ্রহণ লাগবে—এসব নির্দিষ্ট করতে হবে।
‘আগে সমীক্ষা, পরে বছর বছর অপেক্ষা’ নয় : ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি সময় চলে যায় সিদ্ধান্তের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়। তাই এবার প্রকল্পটিকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হলে একসঙ্গে কয়েকটি কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
প্রথম পর্যায়ে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা করিডরের পূর্ণাঙ্গ রুট ম্যাপ, প্রাথমিক ব্যয় ও ভূমি অধিগ্রহণের তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। একই সময়ে পরিবেশগত ও নদীসংক্রান্ত সমীক্ষাও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এরপর যে অংশে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই বা কম, সেখানে প্রাথমিক সড়ক উন্নয়নকাজ আগে শুরু করা যেতে পারে। এতে পুরো প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা না করে কাজকে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে।
সরাসরি সেতুর কাজও থেমে থাকা উচিত নয় : অন্যদিকে সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে নতুন করে শূন্য থেকে সবকিছু শুরু করার প্রয়োজন নেই।
সমীক্ষায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের দৈর্ঘ্য, ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ, নদীশাসন, অর্থনৈতিক সুফলসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা এবং প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগও রয়েছে।
এ কারণে সেতু প্রকল্পে এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থায়ন ও বিনিয়োগকারী চূড়ান্ত করা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা।
এক প্রকল্পের জন্য আরেক প্রকল্প আটকে রাখা যাবে না : ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হবে—একটি প্রকল্পের কারণে অন্য প্রকল্প থেমে যাওয়া। রহমতপুর করিডর বাস্তবায়িত হলে ভোলা জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে একটি কার্যকর বিকল্প সংযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু নির্মিত হলে বরিশালের সঙ্গে ভোলার সরাসরি যোগাযোগ স্থায়ী হবে।
দুটি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও প্রভাব পুরোপুরি এক নয়। তাই কোনটি আগে হবে—এই বিতর্কের পরিবর্তে কোনটি কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় এবং কোনটি দীর্ঘমেয়াদে কী সুফল দেবে, সেটিই হওয়া উচিত মূল বিবেচনা।
১০টি বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত
ভোলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত অগ্রগতির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। এই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে—
১. রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা করিডরের জরুরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা;
২. পুরো রুটের চূড়ান্ত নকশা ও প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ;
৩. ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত চিহ্নিত করা;
৪. প্রয়োজনীয় সেতু ও নদীশাসন কাজের প্রকৌশল নকশা তৈরি;
৫. বিদ্যমান সড়কের যেসব অংশ দ্রুত উন্নয়ন করা সম্ভব, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করা;
৬. সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতুর পিপিপি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া;
৭. দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও অর্থায়নের কাঠামো চূড়ান্ত করা;
৮. ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ও নদীসংক্রান্ত অনুমোদন একই সময়ে এগিয়ে নেওয়া;
৯. দুটি প্রকল্পের জন্য আলাদা সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা;
১০. প্রতি তিন মাসে প্রকল্পের অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
৩০–৫০ বছরের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত
ভোলার জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শুধু একটি রাস্তা বা একটি সেতু নির্মাণ নয়; আগামী কয়েক দশকের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা।
সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতু বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশালের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে ভোলা–লক্ষ্মীপুর স্থায়ী যোগাযোগও বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক করিডর গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে ভোলা সরাসরি জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীসহ আশপাশের এলাকাও যোগাযোগ সুবিধা পাবে। এখন প্রয়োজন সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন ।
ভোলাবাসীর কাছে এখন আর শুধু নতুন ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সময়সীমা, অর্থায়ন ও দৃশ্যমান কাজের অগ্রগতি। সরকার চাইলে রহমতপুর করিডরের সমীক্ষা ও নকশার কাজ দ্রুত শুরু করে স্বল্পমেয়াদি যোগাযোগ সুবিধার পথ খুলতে পারে। পাশাপাশি সরাসরি বরিশাল–ভোলা সেতুর পিপিপি প্রক্রিয়া ও অর্থায়ন চূড়ান্ত করে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী যোগাযোগের কাজ এগিয়ে নিতে পারে। ফলে একটি প্রকল্প শেষ হওয়ার অপেক্ষায় অন্য প্রকল্পকে আটকে না রেখে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই পরিকল্পনাই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই হতে পারে ভোলার জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
ভোলাবাসীর প্রত্যাশা, এবার ঘোষণা নয়—প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও বাস্তবায়নের ধাপ ঘোষণা করা হবে। তাহলেই দীর্ঘদিনের ‘বিচ্ছিন্ন ভোলা’ ধীরে ধীরে পরিণত হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে।
এখন প্রশ্ন—কোন প্রকল্প আগে হবে, সেটি নয়; প্রশ্ন হলো, দুটির কাজ কত দ্রুত শুরু করা যায়।